সৃজনশীলতা বাড়বে পাঁচ উপায়ে

সৃজনশীলতা বাড়বে পাঁচ উপায়ে

সৃজনশীলতা কেবল শিল্পী এবং সুরকারদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সব কাজেরই গতি বৃদ্ধিতে এটা খুব প্রয়োজন। আপনি যদি চান আপনার কর্মীরা একটা দল হিসেবে নির্ভীক, উৎপাদনশীল ও নিজস্ব বোধ শক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচিতির জন্য কাজ করে যাবে, তাহলে আপনাকে তাদের সকলের সৃজনশীলতার সর্বোচ্চটা কাজে লাগাতে হবে। সুতরাং ভেবে দেখুন, আপনার অফিসে কী এ ধরনে সৃজনশীল মানুষদের অর্ন্তভুক্ত করতে পেরেছেন? আপনি দেখবেন, যদিও কিছু লোক সহজাত সৃজনশীল প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, এর অর্থ এই নয় যে সকলেই এমন গুণের অধিকারী হবেন। আবার এমনটা ভাবারও দরকার নেই যে বাকীরা কম সৃজনশীল। নিয়োগপ্রাপ্ত সকলেই নিজস্ব যোগ্যতার বলেই নিয়োগ পেয়েছেন, আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যেন তাঁদের যোগ্যতার বিকাশ ঘটে। সহজাত গুণের অধিকারী কাউকে নিয়োগ দিতে পারলে ভালো, কিন্তু আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য হতে হবে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তাদের সৃজনশীল শক্তিকে পরিচর্যা করে সেরাটা বের করে নেওয়া যায়।

কীভাবে করবেন চলুন দেখে নেই।

১. কাজের নমনীয় সময়সূচী বা শিডিউল তৈরি করা

প্রচলিত নিয়মে অফিসের সময়সূচী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা যা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কাজের নমনীয়তার ক্ষেত্রে সময়সূচী বা শিডিউলে এই নিয়মকে বাধ্যতামূলক মনে না করা, সময়ের ও কাজের নমনীয়তা বজায় রাখা। এমনকি পর্যাপ্ত ছুটির ব্যবস্থা রাখা। একটা নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে এগুলো করতে হবে।

গবেষণায় দেখো গেছে, কাজের নমনীয় সময়সূচী নির্ধারণের ফলে কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের সন্তুষ্টিবিধান ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই ধরণের নীতি কাজের প্রতি কর্মীদের উৎসাহ বাড়ায় এবং আরো বেশি সৃজনশীল কাজে অনুপ্রেরণা যোগায়। যখন কর্মীরা সময়মতো দক্ষতার সাথে কাজ শেষ করতে চায় না, সময়ের অপেক্ষা করে বা দুপুরের খাবার গ্রহণের পর তাড়াহুড়ো করে ফলে তাঁদের অভ্যন্তরে চাপ তৈরি হতে পারে যা কমাতে অধিক সময় লেগে যায় ও সঠিকভাবে কার্য সম্পাদনে বাধা পায়।

২.  বিশ্রামে উৎসাহিত করা

কর্মীদের বিশ্রামের পর্যাপ্ত সুযোগ দিলে, তাঁরা পুণরায় সতেজ হয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন। ফলে কাজের প্রতি দক্ষতা ও সন্তুষ্টি বাড়বে। সৃজনশীল চিন্তাভাবনার উন্নতির জন্য তাঁদের যোগ্যতাকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। যখন আপনার কর্মীরা কার্য সম্পদনে চাপমুক্ত থাকবেন তখন তাঁরা আরামদায়ক এক অবস্থায় থাকবে। বিবেচনাপূর্ণ উপায়ে, শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে  তাঁদেরকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাধীনতা দিতে হবে, তাঁদের সমস্যার কথা চিন্তুা করতে হবে, তাহলে বিকল্প সমাধান বেরিয়ে আসবে।

৩. কর্মীদের নতুন ধারণাগুলো শুনতে হবে

সৃজনশীলতা এমন একটা জিনিস যা শোনা যায় না। আপনার কর্মীরা শান্ত, সৃজনশীল ও সুচতুর ধ্যান-ধারনার অধিকারী হতে পারে, কিন্তু  তারা যদি কর্মক্ষেত্রে সস্তুষ্ট না থাকে বা স্বস্তি না পায় তাহলে আপনি কখনোই তাঁদের এই ধ্বনি শুনতে পারবেন না। এই অনৈক্য বা পার্থক্য সমাধানে প্রতিষ্ঠানে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে যেখানে প্রত্যেকের নতুন নতুন ধারণাকে মনোযোগ দিয়ে শুনবে এমনকি খারাপটাও এবং তা যদি আপনার চিন্তার বাইরে যায় তবুও। আপনি সেগুলোকে কাজে নাও লাগাতে পারেন কিন্তু সেগুলোকে মূল্যায়ন করতে হবে, ভালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং এসবের জন্য কর্মীদের পুরস্কার বা প্রতিদান দিতে হবে। নিয়মিতভাবে এসব চর্চা করতে থাকলে নিত্যনতুন ধারণা তৈরিতে সক্ষম হবে ফলে প্রতিষ্ঠানে সুন্দর এক কর্মপরিবেশ  সৃষ্টি হবে।

৪. কর্মক্ষেত্রে সংবেদনশীল অভিজ্ঞতার প্রয়োগ

সাধারণত কিছু অসামঞ্জস্যপূর্ণ ধারণা থেকেও সৃজনশীল চিন্তা আসতে পারে। কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি যেসব ধারণা ফলপ্রসূ নয় সেগুলোকে উৎসাহের সাথে এড়িয়ে যেতে হবে তাহলে পরবর্তীতে তারা আবার নতুন ও অধিক ফলপ্রসূ চিন্তা করতে অনুপ্রেরণা পাবে।

৫.দলীয়ভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি

কারো মাথা থেকে সৃজনশীল ধারাণা হঠাৎ করেই চলে আসবে সেটা দূর্লভ ব্যপার। আমি দেখেছি ব্যবসায়ের সর্বোত্তম ধারণাগুলো পাওয়া যায় অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং দলের সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে। সৃজনশীলতা তখন একটি দলীয় খেলা হয়ে দাড়ায়। সুতরাং দলীয় সদস্যদের সাথে একসাথে নিজ দায়িত্বে কাজ করতে হবে।

সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা প্রকৃতিগতভাবে সকলের নিকট আসে না, কিন্তু উপরোক্ত পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে পারলে দেখবেন আপনার কর্মীরা ব্যবসায়ের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে নতুন ধারণা, সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজে আরো অধিক উৎসাহী হয়ে উঠবে।

source:http://www.the-prominent.com

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *