অলসতা আর নয়

অলসতা আর নয়

প্রত্যেকেই অলস। সফল ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত এই অলসতা এড়িয়ে চলেন।তাঁরা কখনোই অজুহাত দেখান না যা ফলফলকে প্রভাবিত করতে পারে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, সফলরা যে ৭ টি দারুণ উপায়ে অজুহাতকে পরাজিত করেন।

১) নিজের কাছে দায়বদ্ধ থাকা

কার্য সম্পাদনের জন্য নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে দায়বদ্ধতা রক্ষা করা যায়। গোল নির্ধারণ করে, কর্মতালিকা তৈরি করে, ফোন এবং ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দিয়ে আপনি এটি করতে পারেন। আরো কিছু কাজ করে আপনি নিজেকে দায়বদ্ধ রাখতে পারেন। আপনার মোবাইল এবং কম্পিউটারের ওয়ালপেপার পরিবর্তন করুন যা আপনাকে কাজ করার নর্দেশ দিবে। আপনার কাজ এবং লক্ষ্য সাদা বোর্ডে লিখে ফেলুন অথবা মনিটরে রেখে দিন।

২) অন্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকা

নিজের কাছে দায়বদ্ধ থাকার পাশাপাশি অন্যের কাছেও দায়বদ্ধ থাকুন। সকলকে বলুন আপনার প্ল্যান কি এবং আপনার গোল সম্পর্কে। বন্ধু, কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের আপনার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন। উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি প্রতিদিন জিমে যেতে চান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় আপনার বন্ধুকে টেক্সট করুন ‘আপনি কি আজ জিমে গিয়েছিলেন?’

৩) আত্মসচেতন হওয়া

আত্মসচেতনতা একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য যা প্রতিটি সফল ব্যক্তির থাকে। আত্মসচেতনতা আপনাকে ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে কেন আপনি প্রথম পর্যায় থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।

আপনি একসময় বোঝেন কেন আপনি পিছিয়ে পড়ছেন, একটা পরিকল্পনা করে তা তাড়াতে সহজ হবে আপনার বোধশক্তির মাধ্যমে। এটা আপনাকে পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো দেখাবে, যার মাধ্যমে আপনি সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো সম্পর্কে আপনি সচেতন হোন যেমন বিষন্নতা, প্রজেক্টে বিশ্বাসের অভাব, আত্মবিশ্বাসের অভাব। কারণগুলো জেনে গেলে, এর প্রতিকার খোজা এবং আলসেমি দূর করা যায়।

৪) অগ্রসর পরিকল্পনা

মাঝে মাঝে যখন আপনি কাজ শুরু করেন, আপনার ডেস্কে বসেন এবং কি করতে হবে তা খোঁজেন, শুধুমাত্র মেইল চেক করেই শেষ করে দেন? আপনি যদি আপনার কাজের টেবিলে বসেন এবং কোথা থেকে কাজ শুরু করবেন কোন ধারনা না থাকে, কম প্রভাব পড়ে এমন কাজ (যেমন মেইল চেক করা) দিয়ে শুরু করতে পারেন। কোন নকশা ছাড়া এগুলো ভূপতিত হবে। কোন কাজ শুরু করার পুর্বে বা প্রজেক্টের পূর্বে একটি প্ল্যান তৈরি করুন।

এই কাজের জন্য রাতের পূর্বভাগ হল উপযুক্ত সময়। দিনের মধ্যে কি সম্পন্ন করতে হবে তা আপনাকে বলে দেবে এবং আগামীকাল কি করতে হবে তাও চিন্তায় চলে আসবে। এখন, যখন আপনি কাজ শুরু করবেন, আপনি জানেন কোন কাজগুলো আপনাকে করতে হবে এবং কোনগুলোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার রয়েছে।

৫) বড় কাজগুলো ভেঙ্গে ছোট কাজে পরিণত করা

সফল ব্যাক্তিরা বড় এবং দুর্বার কাজগুলোকে  ভেঙ্গে ছোট অংশে ভাগ করে কাজগুলো সম্পন্ন করেন।তারা জানেন নির্দিষ্ট এবং পরিমাপযোগ্য করতে কাজকে ভেঙে নেয়ার প্রয়োজন হয়।

৬) পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান

প্রজেক্টে সময় বিনিয়োগ করছেন তার মানে এই নয় যে আপনাকে সেটি শেষ করতে হবে। এটি “নিমগ্ন মুল্য ভ্রান্ত ধারনা” নামে পরিচিত। এই ধারনাটি প্রভাবিত করে জুয়াড়ি, বিনিয়োগকারী এবং দীর্ঘসূত্রতাকারীদের। মাঝেমাঝে, একটি প্রজেক্টে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করেও ভালো কিছু না হলে শেষ পর্যন্ত প্রস্থানের প্রয়োজন হয়। এক ধাপ পিছনে যান এবং নির্ণয় করুন যে কারণে আপনি প্রজেক্টে গড়িমসি করছেন।

৭) আপনার পরিবর্তনকাল

অলসতা তাড়ানো যায়।  শুধু প্রয়োজন আত্ম সচেতনতা এবং প্রচেষ্টা। উপরের পন্থা থেকে কিছু পন্থা অবলম্বন করতে পারেন যা কার্যক্ষম করতে সহায়ক হবে।

source:http://www.the-prominent.com

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *