জীবন সহজ করার ৮ উপায়

জীবন সহজ করার ৮ উপায়

জীবন সহজ করার জন্য আপনাকে যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। হাতের কাছে পাওয়া বহু বিষয়ই সুন্দরভাবে ব্যবহার করে জীবন সহজ করা যেতে পারে। এ লেখায় রয়েছে তেমন কয়েকটি উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১. সঙ্গে রাখুন স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার সঙ্গে সব সময় কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। এতে আপনার বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এজন্য বাড়তি খরচের কোনো প্রশ্ন আসে না। বাড়িতে স্বাস্থ্যকর খাবার বানাতে সামান্য ঝামেলা বাড়লেও তা বড় কোনো বিষয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এতে আপনার পুষ্টিকর ও ভালো খাবার খাওয়ার যে স্বস্তি, তা পেয়ে যাবেন সহজেই। এতে আপনার স্বাস্থ্য রক্ষাও সহজ হবে। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এসব খাবারের গুণ বেশি হওয়ায় তা আপনার শরীর ঠিক রাখতেও সহায়তা করবে। এতে আপনার আর্থিক সাশ্রয়ও হবে। যা পরবর্তীতে অন্য কাজে ব্যয় করতে পারবেন। –

২. সুবিধাজনক বাড়ি নিন আপনি বর্তমানে যে বাড়িতে আছেন, তা কি আপনার জন্য আরামদায়ক? যদি না হয় তাহলে আরামদায়ক ও সুবিধাজনক বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। আপনার বাড়ির সব কক্ষ যদি ব্যবহার না হয় তাহলে বুঝতে হবে আরও ছোট বাড়ি নিতে পারেন আপনি। আর যদি বাড়ির সদস্য সংখ্যা বেশি হয় তাহলে বড় বাড়ির প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। ছোট বাড়ি নিলে তা আপনার ভাড়াও বাঁচাবে। অনেক বাড়িতেই বহু কক্ষ থাকে, যার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এ ধরনের বাড়িতে থাকার চেয়ে কম ভাড়ায় ছোট বাড়ি নেওয়া ভালো। বড় বাড়িকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে, জিনিসপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতে ও বাতি কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালাতে বেশি খরচ হয়। তাই ছোট বাড়িতে গেলে আপনার খরচ নিশ্চিতভাবেই কমবে। –

৩. বেশি খাবার বানান খাবার বানানো অনেক সময় ঝামেলার মনে হয়। আপনি টিভি দেখেন, ফুটবল কিংবা অন্য খেলাধুলা প্র্যাকটিস করেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচরণ করেন প্রায় সময়েই। আর এতে আপনার অধিকাংশ অবসর সময় পার হয়ে যায়। এতে রান্না করার মতো সময় পাওয়া যায় না। আর মজাদার কোনো রান্না করার জন্য সময়ের অভাবে আপনার এ শখটির কোনো যত্ন নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একবারেই বাড়তি কিছু খাবার রান্না করে ফেলা। এক্ষেত্রে আপনার বেছে নিতে হবে এমন সব খাবার, যেগুলো খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকবে না। খাবারটি দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখলেও নষ্ট হবে না, এমন খাবার বেছে নিন। এসব খাবার একবারে বেশি করে রান্না করে পরে বন্ধুবান্ধবের সামনে পরিবেশন করতে পারবেন।

৪. নিত্যপণ্য বেশি করে কিনুন একসঙ্গে বেশি করে পণ্য কিনলে তার দাম কম পড়ে। এছাড়া এতে বারবার দোকানে দৌড়ানোর হাত থেকেও বাঁচা যায়। বহু দোকানেই বেশি করে পণ্য কিনলে পাইকারি দামে পাওয়া যায়। চাল-ডালের মতো নিত্যপণ্যও এ ধারার বাইরে নয়। এছাড়া রয়েছে সাবান, স্ন্যাকস, টয়লেট পেপার ইত্যাদি পণ্য। এসব পণ্য একবারে বেশি করে কিনে নিলে তা বহুদিন ব্যবহার করা যায় স্বস্তিতে। আর একটা জিনিস বিবেচ্য যে, জিনিসগুলো যখন কিনতেই হবে, তাহলে একবারেই কিনুন।

৫. ডেস্কেই রাখুন খাবার বেশ কিছু শুকনো খাবার আপনার ডেস্কেই রাখুন। এতে বারবার উঠে গিয়ে খাবার অর্ডার দেওয়ার ও তারপর তা খাওয়ার ঝামেলা থেকে বাঁচা যাবে। ডেস্কে খাবার রাখা হলে তা আপনি নিজের পছন্দমতো কিনে রাখতে পারবেন। কিন্তু রেস্টুরেন্টে সব সময় নিজের পছন্দমতো খাবার পাবেন না। এক্ষেত্রে রেস্টুরেন্টের মেনুর ওপরই নির্ভর করতে হবে। অবশ্য রেস্টুরেন্টে গেলে আপনার সময়ও নষ্ট হবে, ডেস্কে খাবার খেলে সে সময়টি বাঁচানো যাবে। অনেকেই ডেস্কে এজন্য একটি চামচ, বাটি ও বাদামের মতো হালকা খাবার রাখেন। তবে মনে রাখবেন খাবারটি যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয়।

৬. বাজারের তালিকা করুন বাজারে গিয়ে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা কিনে নেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দিনের পর দিন ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে হাতের কাছে থাকায় বহু অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে টাকা নষ্ট করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে বাজারের জিনিসগুলো কেনার একটি তালিকা করতে পারলে এসব বহু ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়।

৭. ফ্রিজে পৃথক করে খাবার রাখুন ফ্রিজে খাবার রাখতে গেলে তা নিয়ে অনেকেই বাড়তি ঝামেলায় পড়েন। প্রতি বেলার খাবার ফ্রিজে আলাদা করে রাখলে এ ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়। এক্ষেত্রে খাবারটি রান্না করে ফ্রিজে রাখার সময় আলাদা আলাদা বাটিতে অল্প করে রাখুন। এতে প্রতি বেলায় একটি করে বাটি বের করে তা রান্না করে খেয়ে নিলেই চলবে। এতে খাওয়ার আগে চট করে খাওয়া যাবে এবং মূল্যবান সময় বাঁচানো যাবে।

৮. টুকিটাকি কাজ করুন শারীরিক অনুশীলন করার বিষয়টি সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শারীরিক অনুশীলন ছাড়া সুস্থ থাকা অনেকের কাছেই অবাস্তব বিষয়। তাই চিকিৎসকরা নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে বাড়িতে বিভিন্ন টুকিটাকি কাজের মাধ্যমে শারীরিক অনুশীলন করা সম্ভব। এজন্য বাড়ি পরিষ্কার, জিনিসপত্র এদিক-ওদিক করা কিংবা রান্না করার কাজ করা যেতে পারে। এতে বাড়ির কাজও যেমন হবে তেমন আপনার শরীরও ফিট থাকবে।

source:http://www.kalerkantho.com/

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *