দেহ ও মনের বল বাড়ানোর ২০ উপায়

দেহ ও মনের বল বাড়ানোর ২০ উপায়

মনোবল শুধু মনের শক্তিমত্তা কিংবা শারীরিক কোনো বিষয় নয়। মনোবলের সঙ্গে দেহের আরও অনেক বিষয় জড়িত। এ লেখায় থাকছে দেহ ও মনের বল বাড়ানোর কিছু উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. শারীরিক পরীক্ষা করুন

আপনার যদি একজন খেলোয়াড়ের মতো শারীরিক ও মানসিক বল তৈরি করতে হয় তাহলে সবার আগে শারীরিক পরীক্ষা করুন। এতে আপনার যদি কোনো শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সমস্যা থাকে তাহলে তা নির্ণয় করে মনোবল বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করা সম্ভব হবে।

২. সুষম খাবার খান

খাবারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আপনার খাবার যদি সুষম না হয় তাহলে তা শারীরিক দুর্বলতা তৈরি করবে। এতে মানসিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়বেন আপনি।

৩. প্রিয় খেলা খেলুন

ঘরের বাইরের যে কোনো খেলাই মনোবল বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত উপকারি। এক্ষেত্রে আপনার প্রিয় কোনো খেলাই বেছে নেওয়া উচিত। এটি আপনাকে আনন্দের সঙ্গে মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে।

৪. ধীরে শুরু করুন

হঠাৎ করে প্রচণ্ড শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করা বোকামি। এক্ষেত্রে শারীরিক উপকারের তুলনায় অপকারই বেশি হতে পারে। এ কারণে ধীরে ধীরে এগুতে হবে।

৫. কার্ডিও করুন

শারীরিক অনুশীলনের মধ্যে কার্ডিও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি দেহের হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দেহের অন্য অংশের উপকারেও এটি ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, লাফানো ইত্যাদি।

৬. বিশ্রাম কমান

আপনি যদি উসাইন বোল্টের মতো স্ট্যামিনা চান তাহলে দুটি কাজের মাঝখানের বিশ্রামের সময়টি কমিয়ে আনুন। আপনি যদি মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করেন তাহলে অবশ্যই বিশ্রাম নেবেন। কিন্তু বিশ্রাম না নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ শারীরিক অনুশীলন করতে পারলে তা আপনার শরীরের যথেষ্ট ক্যালরি ক্ষয় করবে এবং দেহকে সুস্থ রাখবে।

৭. অনেকগুলো ছোট খাবার খান

দেহের এনার্জির ধারা বজায় রাখার জন্য অনেকবার ছোট ছোট খাবার খান। এটি শারীরিক অনুশীলনের সময় খুবই কার্যকর।

৮. বেশি করে পানি পান করুন

পর্যাপ্ত পানি পান করা দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আপনি যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন তাহলে তা দেহের নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৯. লবণের মাত্রা বজায় রাখুন

আপনার দেহের শারীরিক অনুশীলনের মাত্রা যদি বেশি হয় এবং আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণে ঘামেন তাহলে তাতে দেহের লবণের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দেহের লবণের মাত্রা কমে গেলে তা কিছুটা লবণাক্ত খাবার বা পানীয় খেয়ে দূর করা যায়। তবে দেহের লবণের মাত্রা যদি বেড়ে যায় তাহলেও তা রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই উভয়ের মাঝে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।

১০. কার্বহাইড্রেট খান

আপনার খাবারে যথেষ্ট পরিমাণে কার্বহাইড্রেট রয়েছে কি না, লক্ষ্য রাখুন। এ ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে রুটি, ফলমূল, সবজি, পাস্তা ও দুধ।

১১. নিজের সীমাবদ্ধতা জানুন

প্রত্যেকেরই একটি শারীরিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ সীমাবদ্ধতা ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া। হঠাৎ করে আপনি এ সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারবেন না।

১২. বাজে অভ্যাস ত্যাগ করুন

বাজে কিংবা ক্ষতিকর খাবারের কোনো অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। মদ্যপান, ধূমপান ইত্যাদি নেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

১৩. রেকর্ড রাখুন

প্রত্যেকেরই নিজের শারীরিক অনুশীলন, ওজন ইত্যাদি বিষয়ের একটি রেকর্ড রাখা উচিত। এতে নিজের অগ্রগতি মেপে চলা সম্ভব হয়।

১৪. কার্ডিনাল রুল

যে কোনো ভারি ব্যায়ামের আগে কার্ডিনাল রুল মেনে চলুন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ম আপ, স্ট্রেচ ও কুল ডাউন অভ্যাস করুন।

১৫. ওয়েট ট্রেইনার

ওয়েট ট্রেইনার শারীরিক শক্তিমত্তা বাড়ানোর একটি বড় উপায়। কিন্তু এটি করার জন্য ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে। প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করতে হবে এবং তা ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।

১৬. বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ

স্ট্যামিনা বাড়ানোর জন্য শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি বিশ্রামও প্রয়োজন রয়েছে। সপ্তাহে এক দিন করে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।

১৭. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নানা উপায়ে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এসব উপায়ের মধ্যে রয়েছে শারীরিক পরিশ্রম ও যথাযথ খাবার খাওয়া।

১৮. স্বাস্থ্যকর নাশতা খান

সকালের নাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার সারা দিনের উদ্যম যোগায়। সকালের এ নাশতা যেন প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর হয় এটি লক্ষ্য রাখুন।

১৯. ভালো ফ্যাট খান

ভালো ও মন্দ ফ্যাটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মাছের তেল ও তিসির বীজ থেকে ভালো ফ্যাট পাওয়া যায়। এছাড়া রয়েছে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট, যা গ্রহণ করা ভালো।

২০. প্রোটিন গ্রহণ করুন

প্রোটিন দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি দেহের বেশ কিছু চাহিদা পূরণ করে। এতে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়, যা দেহের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। ডিম, দুধ, মাছ, মুরগি ইত্যাদি থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে লাল মাংস এড়িয়ে চলুন।

source:Times of india

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

One thought on “দেহ ও মনের বল বাড়ানোর ২০ উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *