প্রথম বাঁধভাঙ্গা সাফল্যের অধিকারী নারীরা

প্রথম বাঁধভাঙ্গা সাফল্যের অধিকারী নারীরা

গত ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতার জন্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন হিলারি ক্লিনটন। এই ঐতিহাসিক অর্জন উপলক্ষে লাইভ সায়েন্স ডটকম এক নিবন্ধে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী আরো ৭ জন নারীর কথাও আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে:

ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা
ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৩ সালের ৬ জুন ভোস্টক সিক্স নামের একটি সোভিয়েত মিশন নিয়ে তিনি মহাকাশে যান।তেরেসকোভা ৩দিন মহাকাশে অবস্থান করেন।

আর ১৯৮৩ সালে প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণে যান স্যালি রাইড।

ম্যারি কুরি
ম্যারি কুরি বেশ কয়েকটি বিষয়ে নারীদের মধ্যে প্রথম কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ১৯০৩ সালে ম্যারি কুরি প্রথম নারী হিসেবে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তার সঙ্গে আরো দুইজন ওই ‍পুরস্কারের অংশীদার হয়েছেন। একজন তার স্বামী পিয়েরে কুরি অপরজন হেনরি বেকুয়েরেল।

এরপর ১৯১১ সালে কুরি দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার পান। এবার তিনি রসায়ন ‍বিজ্ঞানে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতি স্বরুপ নোবেল পান।

ম্যারি কুরিই একমাত্র নারী যিনি দুটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

ড. এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল
ড. এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিদ্যালয় থেকে বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে এম.ডি (ডক্টর অফ মেডিসিন) ডিগ্রি লাভ করেন।

এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল মেডিকেল স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদনের সময় বেশ কয়েকজন পুরুষ চিকিৎসক তাকে এই বলে নিরুৎসাহিত করেন যে, নারীদের জন্য এই ধরনের শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তিনি প্রায় এক ডজন মেডিকেল স্কুলে ভর্তির আবেদন করার পর নিউ ইয়র্কের জেনেভা মেডিকেল কলেজ তার আবেদন গ্রহণ করে। ১৮৪৯ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম নারী ডাক্তার হিসেবে ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগবিদ্যার চিকিৎসা শুরু করেন।

তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ব্ল্যাকওয়েলের ছোট বোন এমিলিও ওহিওর ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি থেকে ১৮৫৪ সালে এম. ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন।

জ্যাকুলিন কোচরান
১৯৫৩ সালে জ্যাকুলিন কোচরান প্রথম নারী পাইলট হিসেবে শব্দের সমান গতি সম্পন্ন জেট বিমান এফ-৮৬ চালিয়ে রেকর্ড গড়েন। আর ১৯৬৪ সালে শব্দের দ্বিগুন গতি সম্পন্ন একটি জেট বিমান চালিয়ে তিনি আরেকটি রেকর্ড গড়েন। কসমেটিকস সেলসওমেন হিসেবে কাজ করার সময় কোচরান বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

অ্যালেন সোয়ালো রিচার্ডস
তিনি ছিলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-তে ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রথম নারী শিক্ষার্থী। ১৮৭০ সালে যখন তিনি এমআইটিতে ভর্তি হন তখন এমআইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে যে এখন থেকে যে কোনো নারীকেই এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে তেমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

১৮৭৩ সালে তিনি রসায়নে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর দুই বছর পরে তিনি রসায়ন বিদ্যায় নারীদের পড়াশোনার জন্য একটি ওমেনস ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু করেন। ১৮৭৬ সালে ওই ল্যাবরেটরির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

ডানা উলেরি
ডানা উলেরি ছিলেন নাসার প্রথম নারী প্রকৌশলি। ১৯৬১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় থেকেই প্রকৌশলি পদে নিয়োগ পান ডানা।

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গবেষণা বিভাগেও কাজ করেন। সেখানে তিনি একজন প্রথম নারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

অ্যামেলিয়া আরহার্ট
অ্যামেলিয়া আরহার্ট প্রথম নারী ও দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে একা একা বিমানে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেন। এছাড়া দ্রুত গতিতে বিমান চালনা ও দূরত্ব অতিক্রম সংক্রান্ত সাতটি অনন্য রেকর্ডও গড়েন তিনি।

১৯৩৭ সালে বিমানে বিশ্ব ভ্রমণের এক প্রচেষ্টা চালানোর সময় তিনি নিখোঁজ হন। আজও তার ওই নিখোঁজ রহস্যের কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি।

Source:http://www.kalerkantho.com

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *