যে ৫ উপায়ে প্রার্থীর নিয়ন্ত্রণে ইন্টারভিউয়ের পরিবেশ

যে ৫ উপায়ে প্রার্থীর নিয়ন্ত্রণে ইন্টারভিউয়ের পরিবেশ

ইন্টারভিউয়ে যে প্রার্থীরা যান তাদের মনের মধ্যে একটি বিষয় গেঁথে থাকে। তারা চেয়ারে বসে কেবলমাত্র প্রশ্নকর্তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাবেন। তাদের প্রশ্ন এবং জবাব দেওয়ার ওপরই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ভর করছে। অথচ প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার মাধ্যমেই কিন্তু যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ইন্টারভিউ গ্রহণ করছেন তার মনোযোগ কেড়ে নিতে হবে। আর একবার তা করতে পারলে সেখানেই লেগে থাকুন। এমনভাবে মোড় ঘুরিয়ে দিতে হবে যেন প্রশ্নকর্তারা তাদের পরিকল্পা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। এখানে এমন কিছু করার ৫টি উপায় জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. ইন্টারভিউ কক্ষে এমনভাব প্রবেশ করবেন না যে, রিমান্ডে নিতে ডাকা হয়েছে আপনাকে। তারা যা বলবেন এবং যা করবেন তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে জবাব দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনি এবং প্রশ্নকর্তারা সবাই মানুষ। তাই আপনার পক্ষ থেকেও আলাপচারিতার শুরু হতে পারে। ‘শুভ সকাল’ আপনিই আগে জানাতে পারেন। কোনো প্রশ্নকর্তাকে আগেই লিঙ্কডইন প্রোফাইলে দেখে থাকলে তার জানান আগেই দিতে পারেন। আপনি কেবলমাত্র একজন চাকরিপ্রার্থী- এই স্ক্রিপ্টে সেঁটে থাকবেন না।

২. টেবিলটা ঘুরিয়ে দিন; অর্থাৎ আপনার অবস্থান বদলে ফেলুন। প্রথমেই দুই-একটি কি পয়েন্টে কথা বলে আলাপচারিতার কিছুটা অংশ নিজের করে নিতে পারেন। এ কাজে সফল হতে পারলে সাধারণত প্রার্থীর প্রশ্ন করার সুযোগ মেলে।

৩. এটা এমন এক পদ্ধতি যা গুছিয়ে নিতে হবে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে। আশপাশে নজর দিন। ওই অফিসে অসামঞ্জস্য কিছু চোখে পড়ে কিনা দেখুন। কোনো বিভাগে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে চলছে না বলে মনে হতে পারে। প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন, এ পদ্ধতি তার সঙ্গে বেশ ভালো কাজ দেয়। যে বিষয়টি তার সঙ্গে আলাপচারিতার মাঝে তুল ধরবেন, তা আসলে এ অফিসের কর্তাব্যক্তিদের কাছে একটি যন্ত্রণা হয় আছে। যেমন- যে বিভাগে ইন্টারভিউ দিতে গেছেন সেখানকার কোনো একটি দৃশ্যমান সমস্যা প্রশ্নকর্তারও গলার কাঁটা হয়ে থাকবে। এ নিয়ে আলাপ করলে উল্টো প্রশ্নকর্তা আপনাকে তাদের ওই বিশেষ সমস্যার কথা খুলে বলবেন। বিষয়টা আগে থেকেও নজরে পড়তে পারে। যেমন- প্রতিষ্ঠানটি বড়। কিন্তু তাদের ওয়েবসাইট সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে ক্রেতা হারাচ্ছে। এ বিষয়টি তুলতে পারেন ইন্টারভিউয়ে। আপনার সূক্ষ্ম নজর তাদের দৃষ্টি এড়াবে না।

৪. এভাবে একবার প্রশ্নকর্তাদের গতানুগতিক স্ক্রিপ্টের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারলে আপনি সবার আগে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তার ঝামেলার প্রসঙ্গে তোলার পর এটি সমাধানে  ধারাবাহিক উপায় বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে আপনার যোগ্যতা তাদের সামনে উন্মোচিত হতে থাকবে। তাদের এমন মনে হবে যে, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার উপায় হয়তো আপনার কাছে রয়েছে। তা মনে না হলেও অন্তত এটুকু ভাবতে তারা বাধ্য যে, আপনি অন্যদের চেয়েও এগিয়ে। প্রতিষ্ঠানের ওই বিশেষ সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের ভ্রূক্ষেপ না থাকলেও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলাপ করতে পারেন।

৫. ওপরের চারটি ধাপে আপনি নিশ্চয়ই প্রশ্নকর্তাদের সঙ্গে জমিয়ে ফেলেছেন। এবার নিজের কোনো অতীত অভিজ্ঞতার বয়ান দিতে পারেন। একই সমস্যা না হোক, ঝামেলা মেটানোর যেকোনো গল্পটা শুনিয়ে দিন। সমস্যাসংকুল পরিবেশে অন্য যেকোনো সমস্যার সমাধানের গল্প বেশ গুরুত্ব পায়। আবার এমন যদি হয় যে, আপনাকে পরখ করতে কর্তৃপক্ষ ওই সমস্যা সমাধানে কিছু করতে বললো। তখন ভুলেও তা করে দেখানো যাবে না। তবে সমাধানের পথে এগোতে তাদের পরামর্শ দিতে পারেন। এভানে প্রশ্নকর্তাদের চোখে অন্যদের মতো প্রার্থী না হয়ে ভিন্ন কিছু হয়ে উঠুন। ইন্টারভিউয়ের খেলাটা বদলে দিন।

সূত্র : ফোর্বস

 

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *