আপনি এখন কত বেতন পান? উত্তরে যা বলবেন চাকরিদাতাকে

আপনি এখন কত বেতন পান? উত্তরে যা বলবেন চাকরিদাতাকে

যারা চাকরি খুঁজছেন তারা প্রায়ই বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। বিশেষ করে ইন্টারভিউয়ে বসে এ সমস্যা ঘাড়ে চাপে। ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড ও যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও মুক্তি মেলে না তাদের। এ সমস্যায় জর্জরিত অনেকেই জানতে চেয়েছেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ লিজ টেইলরের কাছে। সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞ।

অনেক প্রার্থী লিখেছেন, চাকরি পেতে যা যা থাকা দরকার তার প্রায় সবই রয়েছে। শক্তিশালী লিঙ্কডইন প্রোফাইল গড়ে তুলেছি। বেশ শক্তিশালী রিজ্যুমি জমা দিয়েছি। কয়েকটি ইন্টারভিউ সফলভাবে শেষ করেছি। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইন্টারভিউ শেষে বাড়ি ফিরেছি। দ্বিতীয় অংশেই শুরু হয় ঝামেলা। সাধারণত ফোন করেন চাকরিদাতারা। অনেকে আবারো ডেকে নেন অফিসে। তারা আমার বর্তমান চাকরিতে কত বেতন পাচ্ছি তা জানতে চান। আর সেখানেই ঝামেলা।

তারা হয়তো আমার বেতন জেনে সে অনুযায়ী প্রস্তাব করবেন। কিন্তু আমি বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়েও কম বেতনে চাকরি করছি। আমার পারফরমেন্সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন মেলে না। এখানে আরো বেশি পাওয়ার কথা ছিল। এ ক্ষেত্রে কি করা যায়?

লিজ জানান, আসলে ভালো প্রতিষ্ঠান প্রার্থীকে তার যোগ্যতার বিচারেই বেতন প্রস্তাব করে। আপনি বর্তমানে কত পাচ্ছেন তা কোনো বিষয় নয়। আবার অনেক অফিসই বর্তমান বেতন সম্পর্কে জানতে চান। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তারা বেতন নির্ধারণ করতে ইচ্ছুক থাকেন। কিন্তু এ ধরনের আলাপচারিতা শুরু হলে আপনাকেও কিছু বলতে হবে। কৌশলী কথা ছাড়া আর কিছুই বলার থাকে না।

প্রথমেই বুঝে নিতে হবে, ভালো প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আলাপ করবে না। কিন্তু যারা করবে সে প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলাই ভালো। তা ছাড়া যদি আপনার চাকরি পছন্দ হয়েই যায়, তবুও আলাপচারিতায় কৌশলী হতে হবে। এখানে কি করবেন সে সম্পর্কে ধারণা নিন। উদাহরণ হিসাবে এখানে একটি আলাপচারিতা তুলে দিয়েছে লিজ।

চাকরিদাতা : আপনি বর্তমান চাকরিতে কত পারিশ্রমীক পাচ্ছেন?

প্রার্থী : আমি আসলে চাকরি খুঁজে চলেছি। সেখানে আমার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতনের চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আমি খুঁজছি মাসে চল্লিশ হাজার টাকার বেতনের চাকরি (উদাহরণ স্বরূপ বলা হলো)। এখানে কি এ পরিমাণ বেতন মিলবে?

চাকরিদাতা : আমরা মূলত কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রার্থী হিসাবে আপনি একাধিক বিষয়ের জন্য খাপ খেতে পারেন। আর সে কারণেই আপনার বর্তমান বেতন সম্পর্কে আমাদের জানা প্র্রয়োজন।

প্রার্থী : এটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আমি কয়েকটি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীর সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছি। তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পদে বেতনের বিষয়টি জানিয়েছেন আমাকে। কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান আমাকে এ সংক্রান্ত কোনো ধারণা দেয়নি। আমি আসলে আমার বর্তমান বেতনের পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আশা করি আপনাদের সময়ের অপচয় ঘটবে না। তাই আগে থেকেই বলে দিলাম।

চাকরিদাতা : আসলেই তাই? কর্তৃপক্ষ আপনার বেতন সম্পর্কে জানতে চায়। এখানে নিয়োগ পেতে আপনার বর্তমান চাকরির বেতনের সার্টিফিকেট দেখানোর প্রয়োজন হবে। কারণ আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে কোথাও আসলেই চাকরি করছেন এবং বেতন পাচ্ছেন।

প্রার্থী : আমাকে এ তথ্যটি দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ। আশা করি কোনো প্রতিষ্ঠান আমার যোগ্যতার ভিত্তিতে বেতন প্রস্তাব করবে। কিন্তু বেতন নির্ধারণের বিষয়টি যদি বর্তমান চাকরিতে পাওয়া বেতনের ওপর নির্ভর করে তবে আমি আগ্রহী নই। আমার বেতনের বিষয়টি ব্যক্তিগত। বর্তমান বা তারো আগে কত বেতন পেতাম তার সবই ব্যক্তিগত বিষয়।

চাকরিদাতা : ঠিক আছে। আমরা দেখেছি, আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো। আমাদের অন্তত আপনার বেতনের রেঞ্জটা বলেন। যেমন- আপনার বেতন ২০-৩০ হাজারের মধ্যে।

প্রার্থী : এটাও আসলে গোপন তথ্য। কর্তৃপক্ষ আমার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে যদি মনে করে যে, আমার চাহিদা ঠিক আছে, তবেই কথা বলা যেতে পারে।

আসলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের এইচআর নতুন প্রার্থী কত বেতন পাচ্ছেন সে সম্পর্কে জানতে চায়। যারা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তাদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া থাকে। তাই প্রশ্নকর্তারা এ বিষয়ে আলাপ শুরু করতেই পারেন। যদি মনে করেন, এই চাকরিতে যে দক্ষতা দরকার তা আপনার রয়েছে তবে সরাসরি কথা বলতে পিছিয়ে পড়বেন না।

যারা আপনাকে সত্যিকার অর্থেই আদর্শ পারিশ্রমীকে নিতে চান, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলবেন। অন্যথা আপনি কোনো অবস্থাতেই বর্তমান বেতন সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নন। যদি তাদের আলোচনা আপনাকে সত্যিকার অর্থেই অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয়, তবে ভদ্রোচিতভাবে ওই অফিস ত্যাগ করুন।

সূত্র : ফোর্বস

 

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *