চাকরিপ্রার্থীর ‘আবেগগত বুদ্ধিমত্তা’ কেমন? ২ প্রশ্নে জেনে নিন

চাকরিপ্রার্থীর ‘আবেগগত বুদ্ধিমত্তা’ কেমন? ২ প্রশ্নে জেনে নিন

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা কর্মীদের মাঝে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কিংবা আবেগগত বুদ্ধিমত্তা রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বিষয়টি জেনে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয় ইন্টারভিউতে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন দুটি প্রশ্ন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মীদের মাঝে নিয়োগের আগেই জেনে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ যে, তাদের আবেগগত বুদ্ধিমত্তা রয়েছে কি না। সঠিকভাবে বিষয়টি জানতে না পারলে তা সঠিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এতে অনেক অযোগ্য কর্মীও নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক জরিপে দেখা যায়, ৪৬ শতাংশ নতুন কর্মী নিয়োগের ১৮ মাসের মধ্যেই যথাযথ ফলাফল প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়। এক্ষেত্রে তাদের আচরণগত সমস্যা থাকে ৮৯ শতাংশ কর্মীর এবং আবেগগত বুদ্ধিমত্তা কম থাকে তার পরেই।
যাদের আবেগগত বুদ্ধিমত্তা কম থাকে তারা জানে না, নিজের আবেগকে ঠিক কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া অন্যের আবেগকে কিভাবে বুঝতে হবে তা নিয়েও বিভ্রান্তি থাকে তাদের মাঝে। যে কর্মীরা বেশিমাত্রায় মানসিক চাপ, কাজে বাধা ও সংঘাতের মাঝে থাকে তাদের মাঝে এ সমস্যা বেশি হয়।
প্রশ্ন : আপনি কি একটি সময়ের কথা বলবেন যখন আপনি কাজে ভুল করেছিলেন?
উত্তর ১ : আমাকে বলা হলো আমি ক্লায়েন্ট রিপোর্ট তৈরি করতে একটি ভুল করেছি। কিন্তু আমি কাজটি সঠিকভাবেই করেছিলাম। কিছুটা অনুসন্ধানের পর আমি দেখতে পাই সেখানে একটা ভুল রয়েছে। এ ভুলটি হয়েছে অন্য একজনের দোষে। তিনি আমাকে সঠিকভাবে বিষয়টি বলেননি। এ বিষয়টি আমি নোট করেছি এবং এজন্য আমাকে যেন দায়ী না করা হয় সেজন্যও বলেছি।
উত্তর ২ : প্রোডাকশন লাইনে একটি সমস্যা থাকায় আমি সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি বন্ধ করার নির্দেশ দেই। এটি ঠিক করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আমার এক সহকর্মী এ সমস্যাটি ঠিক করে এবং উৎপাদনে ক্ষতি সবচেয়ে কম রেখে আমরা তা ঠিক করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় আমাকে কয়েকটি বিব্রতকর সিদ্ধান্তও নিতে হয়। এ ঘটনায় আমি অনেক কিছু শিখেছি যেন পরবর্তীতে এ ধরনের ভুল আর না হয়।
ওপরের দুই ধরনের উত্তরের মধ্যে অবশ্যই দ্বিতীয় উত্তরটি যিনি দিয়েছেন তিনি ইন্টারভিউতে টিকবেন। কারণ তার উত্তরই বলে দিচ্ছে তিনি  আবেগগত বুদ্ধিমত্তার বিচারে যথেষ্ট সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পেরেছেন।
প্রশ্ন : কোনো একটা সময় আপনি যখন বসের কাছ থেকে বিরূপ ফিডব্যাক পেলেন তখনকার ঘটনা বর্ণনা করুন।
উত্তর ১ : আমার বস একদিন আমার আচরণ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। আমি তার মুখোমুখি হলাম এবং কোন সময় তা করলাম সেজন্য প্রশ্ন করলাম। আমি এজন্য অত্যন্ত সতর্ক ছিলাম। তিনি আমাকে কোনো উদাহরণ দিতে পারলেন না। এতে আমার পারফর্মেন্স রিভিউ থেকে তা বাদ দেওয়া হয়।
উত্তর ২ : একটি ট্রেনিং সেশন শেষে আমার বস জানালেন প্রেজেন্টেশনে আমি বহু বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগী হয়েছি কিন্তু সঠিক বিষয়টি প্রায়ই ধরতে পারিনি। এ ফিডব্যাকে আমি খুবই অবাক হলাম। কিন্তু আমি দুঃখিত হলেও সতর্ক হয়ে গেলাম। এটি ছিল আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আমি তার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিয়ে প্রেজেন্টেশন থেকে বিষয়গুলো সংশোধন করলাম।
ওপরের এ দুটি উত্তরের মাঝে প্রথম উত্তরটি মোটেই আবেগগত বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করে না। কিন্তু দ্বিতীয় উত্তরটি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ। কারণ তিনি নিজেকে সংশোধিত করছেন যথাযথভাবে। আর এ বিষয়টিই আবেগগত বুদ্ধিমত্তার মূল বিষয়।
Source:ফোর্বস।
It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *