জনসমক্ষে বক্তব্য দেবেন? সবার আগে ইগো দূর করুন

জনসমক্ষে বক্তব্য দেবেন? সবার আগে ইগো দূর করুন

প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব ইগো বা অহং রয়েছে। আপনি যদি নিজের এই ইগোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে ইগোই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এতে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে যেমন নানাধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে তেমন আপনার সামাজিক জীবনেও সমস্যা সৃষ্টি করবে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।

জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া অনেকের কাছেই অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে অনেকেরই ইগো তাকে নানা ধরনের দ্বিধা ও ভয়ের মাঝে ফেলে। আপনি হয়ত অন্যের মাপকাঠিতে বিচারের মুখোমুখি হতে ভয় পান কিংবা আরও অবনতির ভয়ে ভীত থাকেন। অন্য কেউ আপনাকে ভুলের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারে- এমন আশঙ্কাও থাকতে পারে। আপনাকে এমন কোনো প্রশ্ন করা হতে পারে, যে প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা নেই। এ ছাড়া আপনি চিন্তিত থাকতে পারেন আপনার মাইক্রোফোন, আপনার পোশাক কিংবা বেশভূষার ওপর। আপনি কোনো বিষয় ভুলে যেতে পারেন কিংবা আপনার তুলনায় স্মার্ট কোনো ব্যক্তির কাছে হেরে যাবেন -এমন আশঙ্কাও থাকতে পারে।

তবে আপনি যদি সত্যিই ইগো থেকে বের হয়ে আসতে চান তাহলে বুঝতে হবে এ ধরনের ইগো সর্বদা আপনাকে পেছনে টানতে চাইবে। আপনার উচিত হবে এটি জেনে রাখা যে, এগুলোকে পাশ কাটিয়েই আপনার চেষ্টা করে যেতে হবে। ক্রমে অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলে এসব ইগো আর আপনার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।

ইগো বা অহং বিষয়ে একটি বই লিখেছেন রায়ান হলিডে। ‘ইগো ইজ দ্য এনিমি’ নামে সে বইতে নানা যুক্তি ও বাস্তব উদাহরণের সহায়তায় তুলে ধরা হয়েছে ইগো বিষয়ে বিশ্লেষণ। বইতে প্রাথমিকভাবে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা না হলেও পরবর্তীতে বোঝা যায়, এ বিষয়ে বহু তথ্য পাওয়া যাবে বইটিতে। নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, উদ্ধৃতি ও আইডিয়া তুলে ধরা হয়েছে এ লেখায়।

বইতে লেখক জানিয়েছেন, ইগো মূলত তিনটি উপায়ে মানুষের বিপদ ডেকে আনে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিষয় আকুলভাবে কামনা করা, সাফল্য ও ব্যর্থতা-এ তিনটি বিষয় দেখা যেতে পারে। আপনি যখন কোনো একটি বিষয় আকুলভাবে কামনা করবেন তখন এমনটা হতে পারে। আপনার ইগোর কারণে ধারণা হতে পারে যে, এটি একটি নির্দিষ্ট উপায়ে হওয়া উচিত। অথবা এটি এখনই যথেষ্ট ভালো রয়েছে এবং এতে আর কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া এমন হতে পারে যে, আপনার কোনো একটি পর্যায়ে সাফল্য চলে আসার পর আপনি স্থবির হয়ে গেলেন। আপনার নতুন করে সাফল্যের সন্ধান করার তুলনায় আপনি সে সাফল্যের কথাই বর্ণনা করতে থাকলেন। এ ক্ষেত্রে আপনার নতুন কোনো সাফল্য আসার সম্ভাবনা দূরে সরে যায়। এতে নতুন করে ব্যর্থতা তৈরি হতে পারে।

জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই নিজের ইগোর এ বিষয়গুলোর মাঝে বন্দি হয়ে পড়ি। ফলে পুরনো বিষয়গুলোই বারবার উঠে আসতে থাকে। নতুন বিষয় না আসায় বক্তব্যও হয়ে পড়ে গৎবাঁধা। এ ক্ষেত্রে ভালো করতে হলে সর্বদা ইগোর ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে ক্রমাগত উন্নতির চেষ্টা করতে হবে।

Source: ফোর্বস।

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *