৩ অভ্যাসে ব্যস্ততার মাঝেও বেরিয়ে আসবে সময়

৩ অভ্যাসে ব্যস্ততার মাঝেও বেরিয়ে আসবে সময়

আপনাদের মধ্যে কয়জন নিয়মিত অফিস থেকে সময়মতো বের হতে পারেন? এটা হওয়া যায় না। ফলে হতাশা ভর করে। মানুষ বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে বাসায় ঢুকে পরদিনের কাজ নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। মাত্র ৩টি অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিদিন বাড়তি সময় বের করে নেওয়া যায়।

১. মেডিটেশন করুন : অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে, ব্যস্ত সময় থেকে টানা ২০ মিনিট চুপচাপ বসে থেকে নষ্ট করার উপায় কোথায়? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণায় বলা হয়, মেডিটেশনের মাধ্যমে মনটাকে পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। এতে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। যেকোনো কাজে উৎসাহ আসে। মেডিটেশনের প্রভাব বিস্ময়কর। এ কাজের লক্ষ্য দুশ্চিন্তা, শঙ্কা এবং বিষণ্নভাব দূর করা। বর্তমানে যদি মস্তিষ্ককে ব্যস্ত করতে পারেন তবে সবকিছু্ই স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক হবে। এর মাধ্যমে আপনি আরো বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠবেন। ফলে বিভিন্ন কাজে যতটা সময় ব্যয় করতেন, তার চেয়ে অনেক কমে আসবে সময়ের খরচ।

২. মাল্টিটাস্কিংকে বিদায় জানান : সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একাধিক কাজ সামলাতে অনেকেই একযোগে একাধিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে আসলে কোনো কাজই পরিপূর্ণভাব সম্পন্ন হয় না। আবার সব কাজে গলদ থেকে যায়। গবেষণায় বলা হয়, মানুষের মস্তিষ্ক একযোগে একাধিক কাজ করতে পারে না। তাই এটি করতে গেলে সব কাজই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ‘ফ্রন্টলাইন’ নামের একটি ডকুমেন্টরি সিরিজে প্রফেসর ক্লিফোর্ড নাস মাল্টিটাস্কিং নিয়ে এক যুগান্তকারী গবেষণার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, একই সময়ে একাধিক কাজ করতে গেলে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা এসে সব এলোমেলো করে দিতে চায়। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়। অনেকে একাধিক কাজ করতে গিয়ে মনে করেন, তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিটি কাজ আলাদাভাবে করতে গেলেই পার্থক্য স্পষ্ট হবে।

সময় বাঁচানোর পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞরা ‘প্রোমোডরো টেকনিক’ গ্রহণের পরামর্শ দেন। এ পদ্ধতিতে কাজের সঙ্গে জীবনের সুন্দর সমন্বয় করা যায়। বলা হয়, এ পদ্ধতিতে টানা ২৫ মিনিট কাজ করার পর ৩-৫ মিনিটের বিরতি নিতে হবে। এভাবে চার দফায় কাজটিক এগিয়ে নিন। এরপর ২০-২৫ মিনিটের বিরতি নিন। একাধিক কাজ একযোগে করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৩. প্রাণ ভরে শ্বাস নেওয়ার বিরতি : কাজের ফাঁসে বিশ্রাম দিতে হবে মন ও মস্তিষ্ককে। বিরতি নেওয়া প্রোমোডরো টেকনিকের অংশ। অনেক গবেষণায় বলা হয়, টানা এক ঘণ্টা কাজের পর ১০ মিনিটের ব্রেক নিন। ঘড়ি ধরে কাজ করতে গেলে সময়ের বিপরীতে কাজ শেষ করার পেরেশানি চলে আসে। এখানে সময় হয়ে যায় বিরোধী কেউ। আসলে সময়কে বন্ধু করে নিতে হবে। কাজের ফাঁকে গভীর শ্বাস নিতে একটু সময় দিন। এই অভ্যাস পরবর্তী কাজের অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে। সময়কে বিরোধী করে নিলে মানসিক চাপে পড়তে হবে। এতে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃদরোগসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যখনই কোনো কাজে চাপ অনুভব করছেন তখনই স্থিত হতে নিজেকে ৫-১০ মিনিট সময় দিন। তখন কোনো স্মার্টফোন নয়, সোশাল মিডিয়া নয় বা অন্য কোনো কাজ নয়। টানা তিন মিনিট ধরে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে যাবতীয় কাজের চাপ কমে আসবে। আবারো কাজের উদ্যম ফিরে আসবে।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

One thought on “৩ অভ্যাসে ব্যস্ততার মাঝেও বেরিয়ে আসবে সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *