যে ৭ টি কারণে ‘মার্ক জাকারবার্গ’ একজন সফল সিইও

যে ৭ টি কারণে ‘মার্ক জাকারবার্গ’ একজন সফল সিইও

ফেসবুকের জনক ‘মার্ক জাকারবার্গ’ শুধুমাত্র একজন সফল সিইও-ই নন, তিনি বর্তমানে বিশ্বের কনিষ্ঠ বিলিওনিয়ারদের মধ্যে একজন। মাত্র একটি ঘর থেকে শুরু করা তার কোম্পানি আজ এতোটা প্রতিষ্ঠিত এবং জনপ্রিয়। সফলতার পেছনের কাহিনী কি কেউ জানেন? জানেন যে কী কারণে আজ তার প্রতিষ্ঠান এতো বেশি জনপ্রিয়? নিজের কাজের প্রতি কতোটা নিষ্ঠাবান এই মানুষটি সেটা তাঁর কাজকর্ম থেকে ঠিকই টের পাওয়া যায়, কিন্তু তার সফলতার পেছনে আরও অনেক কিছুই জড়িয়ে রয়েছে।

শুধু তাই নয়, তাকে একজন সিইও হিসেবে ফেসবুকে চাকুরীরত প্রায় ৯৯% কর্মকর্তাই বেশ পছন্দ করেন। চলুন তাদের মুখ থেকেই জেনে নেয়া যাক মার্ক জাকারবার্গের সফলতার কিছু কাহিনী এবং তার এতোটা জনপ্রিয় সিইও হওয়ার নেপথ্যের কারণ।

১) তিনি ব্যতিক্রম

ফেসবুকে কর্মরত একজন এমপ্লয়ী জানান, ‘আমি ২০১০ সালে যখন ফেসবুকে যোগদান করি তখন একটি গোপন প্রজেক্টে কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার জন্য বলতেই মি. জাকারবার্গ আমার সাথে দুবারের মতো মিটিংয়ে বসেন। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম, এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও আমার মতো একজন শিক্ষানবিশ, নতুন এমপ্লয়ীর সাথে কতো সহজে মিটিংয়ে বসে গেলেন, যা আমি আমার চাকুরীজীবনে অন্য কোনো কোম্পানিতে পাইনি’। মার্ক তার প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ট্র্যাডিশন একেবারেই ধরে রাখেন নি। তিনি ব্যতিক্রম চিন্তা করেন সবসময়। সেকারণেই তিনি উন্নতি করতে পারছেন এতো দ্রুত।

২) তিনি নিজেকে সকলের মতোই ভাবেন এবং সকলকে একই দৃষ্টিতে দেখেন

ফেসবুক অফিসে মার্ক জাকারবার্গের নিজস্ব রুমটি কাঁচের তৈরি। আর দশজন সাধারণ বড় প্রতিষ্ঠানের সিইওদের মতো নিজের রুমটি শক্ত দেয়াল এবং দরজার সামনে একজন পিয়ন বসিয়ে রাখতে একেবারেই নারাজ তিনি। অফিসের সকলের কাছাকাছি থেকে কাজ করতেই বেশি আনন্দ পান। এবং নিজেকে সিইও না ভেবে একজন এমপ্লয়ী ভেবে তাদের পাশে থাকতেই বেশি পছন্দ তার। এছাড়াও তিনি অনেক ক্রিয়েটিভ আইডিয়ার জন্য নিজের কর্মকর্তাদের হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ভার ছেড়ে দেন।

৩) তিনি বৈধ পথে কাজ করেন

শুধুমাত্র নিজের আইডিয়া, প্রতিভা এবং যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে আজকে তিনি একজন সফল মানুষ ও একজন বিলিওনিয়ার। একটি ছোট্ট রুম থেকে শুরু করে আজকের প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আসার পথটি কিন্তু খুব সহজ ছিল না। কিন্তু মার্ক সকল বাঁধা বিপত্তি পার করে আজকে উন্নতির শিখরে বসে আছেন। এবং এই বাঁধা পেরোনোর জন্য তিনি কখনোই অবৈধ কিছুর সাহায্য নেন নি।

৪) তার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে

ফেসবুক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মার্ক জাকারবার্গের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট। তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চাইতেন। প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি তার লক্ষ্য থেকে এক বিন্দু পরিমাণে সরেন নি। শুধুমাত্র নিজের লক্ষ্যে পৌছনোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন। আর লক্ষ্যকে সামনে রেখে পথ চললে, পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।

৫) তিনি ঝুঁকি নিতে সর্বদা প্রস্তুত

ফেসবুকের সকল এমপ্লয়ীর বর্তমান উদ্ধৃতি ‘আর কোনো প্রতিষ্ঠানের সিইওর কি সাহস আছে ১৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে অন্য আরেকটি কোম্পানি কিনে নেয়ার?’ সত্যিই তাই। হোয়াটসঅ্যাপ যখন ফেসবুক কিনে নিয়েছিল তখন কিন্তু তা শুধুমাত্রই ঝুঁকিমূলক একটি কাজ ছিল। কিন্তু মার্ক নিজের সিদ্ধান্ত এবং ব্যাকআপ রেখেই হুট করে ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি ঝুঁকি নিতে সবসময় প্রস্তুতই থাকেন। আর এটিও একটি ভালো গুণ সফল হয়ে উঠার জন্য।

৬) তার অফিস গৎবাঁধা আর দশটা অফিস থেকে ভিন্ন

পরিপাটি ডেস্ক, পরিপাটি ফর্মাল কাপড়চোপড় পরে অফিসে আসা ইত্যাদি ধরণের বাঁধা ধরা ট্র্যাডিশনাল নিয়মকানুন এই প্রতিষ্ঠানে নেই। মার্ক সর্বদাই তার এমপ্লয়ীদের সুযোগ সুবিধার কথা ভেবে থাকেন। ফ্রি লাঞ্চ এবং ঘরের মতো রিলাক্স ভাবে কাজ করার সুবিধা অবশ্যই তার প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে তুলেছে। এবং সে কারণেই তার এমপ্লয়ীরা যখন কাজ করেন তখন প্রতিষ্ঠানটিকে ভালোবেসেই কাজ করেন। এভাবে টীমের কাজও হয় উন্নত।

৭) তিনি সকলের সাথে কথা বলেন এবং যে কোনো প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যায়

অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের সিইওদের মতো ছোটোখাটো বিষয়ে এমপ্লয়ীদের সাথে কথা না বলার মতো ভুল কাজটি মার্ক করেন না একেবারেই। প্রতিষ্ঠানের বড় থেকে ছোটো সকল ব্যাপারেই তিনি অবগত থাকেন। এবং নিজের অফিসের ছোটো পোস্ট থেকে শুরু করে সকল পোস্টের এমপ্লয়ীদের সাথে কথা বলে রিভিউ নিয়ে থাকেন। এবং যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সকলের পাশেই থাকেন। এমন একজন সিইওকে পছন্দ না করে কেউ থাকতে পারেন?

লাইফহ্যাক্সে প্রকাশিত ‘Reasons Why 99% of Facebook Employees Love Mark Zuckerberg’ হতে সংগ্রহীত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *