কাজে লাগান নেতিবাচক সমালোচনা

কাজে লাগান নেতিবাচক সমালোচনা

মানুষ মাত্রেই ভুল হয় – সত্য এই কথাটি কত সহজ, তাই না? কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর প্রভাব খুব একটা সুখকর নয়, তা কমবেশি সবাই জানেন। কাজে ভুল মানেই বিরূপ সমালোচনা। কখনো তা রূপ নেয় ব্যক্তিগত আক্রমণ, কখনো বা নীরব ভত্‍র্সনার। সহকর্মীদের নিজস্ব সমীকরণে অল্প অল্প করে সমস্যা দেখা দিতে থাকে। আরো যে কত জটিলতা দেখা দেয়, তায ইয়ত্তা নেই। এসব থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, কাজে ভুল এবং সেই সংক্রান্ত সমালোচনা পুরোপুরি এড়িয়ে চলা যাবে না। অথচ চুপ করে সমালোচনা মেনে নেয়াও কঠিন। তাহলে কি ইতিবাচকভাবে সমালোচনার মোকাবিলা করা সম্ভব? উত্তরটা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’। সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার সময়ই ভালো করে বিশ্লেষণ করুন তা গঠনমূলক, অর্থাত্‍ এটা থেকে শেখার কিছু আছে না কি তা নিছকই ব্যক্তিগত আক্রমণ। বেশিরভাগ সময়ই ঈর্ষা থেকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ জন্ম নেয়। নিজের ব্যবহার, আচার-আচরণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তাতে পরিবর্তন আনা ছাড়া এ ক্ষেত্রে আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা বা কন্সট্রাকটিভ ক্রিটিসিজমকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে লাভ হবে আপনারই।

মনে করুন, আপনার কাজে বেশ কিছু ভুল বের হয়েছে। সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কেউ, যিনিই এই ভুলগুলো দৃষ্টিগোচর করবেন, তার কথা খুব মন দিয়ে শুনুন। আসলে আমরা অপর পক্ষের কথা খুব একটা মনযোগ দিয়ে শুনি না বলেই চট করে রেগে যাই। কোন ভুলগুলো বারবার হচ্ছে, কোন কাজটা আরো একটু মন দিয়ে করলে ভালো হয় ইত্যাদি নোট করে নিন। কাজের জায়গায় সেই নোটটা পিন আপ করে রাখুন। কাজের সময় বারবার চোখে পড়লে সুবিধা হবে। তবে সমালোচনা মোকাবিলা করার সময় কখনো নিজের ইগো টেনে আনবেন না। যদি মনে হয় সমালোচনা পুরোটা সত্যি নয় তাহলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন। কিন্তু শুধামাত্র আপনার কাজে ভুল বের করা হয়েছে বলে রেগে যাবেন না। রাগ বা অপমানবোধ আপনাকে গ্রাস করে ফেললে ঠাণ্ডা মাথায়, যুক্তি সাজিয়ে বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন। নিজেকে আত্মবিশ্বাস যোগান, কাজের ফিডব্যাক যত নেতিবাচকই হোক না কেন, সেই বাধা কাটিয়ে উঠে উন্নতি করবেনই।

কোনো ধরনের নেতিবাচক ফিডব্যাক শোনার সময় আমরা অনেক সময় একেবারেই চুপ করে যাই। যা বলা হচ্ছে সেটা আপনার খারাপ লাগলেও শুধু চুপ করে থাকলে অনমনীয় মনোভাবই প্রকাশ পাবে। তাই মেজাজ খারাপ না করে প্রশ্ন করুন। জানতে চান ঠিক কীভাবে করলে কাজটা আরো ভালো হবে। নিজের কোনো মতামত থাকলে সেটাও জানিয়ে দিতে পারেন। এইভাবে অনেক না-করা প্রশ্নের জবাবও আপনি পেয়ে যেতে পারেন। ফিডব্যাক শোনার সময় আপনি ভবিষ্যতে কীভাবে নিজের কাজ উন্নত করবেন, সেই প্রসঙ্গেও আলোচনা করে নিন। আক্রমণাত্মক আলোচনাকে ইতিবাচক মোড় দেয়ার জন্য এটা খুব কার্যকর উপায়।
সমালোচনা শুনতে কারো ভালো লাগে না। আর এ কারণেই বোধহয় সমালোচকদের প্রতি একটা বিরক্তি, রাগ মনে থেকেই যায়। অথচ যিনি নেতিবাচক ফিডব্যাক দিচ্ছেন তিনি কিন্তু নিজের কাজই করছেন। তার ওপর খামোখা রাগ করার অর্থ হলো নিজের উন্নতিকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়া। মনে ক্ষোভ পুষে না রেখে তাকে ধন্যবাদ জানান আপনাকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য। এতে সম্পর্কও নষ্ট হবে না, কাজও শিখতে পারবেন। নেতিবাচক ফিডব্যাক পাওয়ার পর কিন্তু চটপট একটা ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন’ তৈরি করে ফেলুন। কীভাবে পরের বার কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন সেদিকে জোর দিন। কোনো অভিজ্ঞ সহকর্মীর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

টিপস

– নেতিবাচক সমালোচনা শোনার সময় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দেখুন তাতে কতটা সত্যতা রয়েছে।
– ঠাণ্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতি সামলান। রেগে গেলে কিন্তু নিজের ইমেজের ক্ষতি করবেন।
– অন্যের মতামত থেকে শিক্ষা নিন। বুঝতে চেষ্টা করুন আপনার কাজের ভুলগুলো কীভাবে শোধরাতে পারবেন।
– কীভাবে নিজের কাজে উন্নতি ঘটাবেন সে ব্যাপারে একটা ধারণা সমালোচককে দেয়ার চেষ্টা করুন।

তথ্যসূত্র: রুলস অব ওয়র্ক, সানন্দা

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *