লক্ষ্য নির্ধারণ করুন বৈজ্ঞানিক কৌশলে

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন বৈজ্ঞানিক কৌশলে

জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া খুবই জরুরি। একটি নির্দিষ্ট উদ্দ্যশ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া এনে দেয় সফলতা। নইলে আসলে দিক ভুল করব আমরা সবাই। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাবে, কিন্তু আমাদের মনে হতে থাকবে কিছুই করা হল না, কিছুই পাওয়া হল না। ঘিরে ধরবে হতাশা।
হতাশা/বিষন্নতার মানসিক রোগ শুধু যে রোগীকে ভোগায় তাই নয়, এর কারণে বিপদগ্রস্থ হয় আশপাশের মানুষেরাও। হতাশাগ্রস্থ মানুষটির নিজ জীবনের অসন্তুষ্টি থেকে তৈরি হয় অপরের প্রতি ঈর্ষা, যা কখনো কখনো হয় মারাত্মক ক্ষতিকারক। তাই আসুন নিজ জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করি। এগিয়ে যাই লক্ষ্যের হাত ধরে। ভুলে যাই কি পাই নি। ঠিক করি, কি পাব! লক্ষ্য নির্ধারণের এই বৈজ্ঞানিক কৌশল সাহায্য করবে আপনাকে।
‘SMART’ এই শব্দে লুকিয়ে আছে লক্ষ্য নির্ধারণের চমৎকার কৌশলটি। দেখে নিন ব্যাখ্যাগুলো-
Specific-নির্দিষ্টতা
আপনার লক্ষ্যটি নির্দিষ্ট হতে হবে। ধরুন, আপনি ঠিক করলেন আপনি সফল হবেন। কিন্তু এটি কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য হল না। কারণ এখানে অনেক প্রশ্নের ফাঁক রয়ে গেল। আপনি কোন ক্ষেত্রে সফল হতে চান, কতটুকু পেলে আপনি সেটাকে সফলতা বলবেন ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। তাই আপনাকে আরও ভাল করে ভাবতে হবে। আপনার লক্ষ্য হবে একেবারে সঠিক পয়েন্টে। যেমন- আমি রোজ সকালে ৬টায় ঘুম থেকে উঠতে চাই। এটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।
Measurable-পরিমাপযোগ্য
লক্ষ্যটি হতে হবে পরিমাপযোগ্য। আপনাকে মাপতে পারতে হবে, প্রতিদিন আপনি দেখতে পাবেন কতটুকু এগিয়ে গেলেন আর কতটুকু বেশি শ্রম দিলে আরও ভাল হত। সবচেয়ে ভালো কাজ রোজ মাইক্রোসফট এক্সেলে সবকিছু লিখে রাখা, আগের দিনের কাজের সাথে তুলনা করা এবং মাসিক লক্ষ্য অর্জন হতে আপনি আর কতাটা দূরে তা পরিমাপ করা।
Attainable- অর্জনযোগ্য
আমরা যদি আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার লক্ষ্য নিই তাহলে কি সেটা সম্ভব? আপনার লক্ষ্যটি অবশ্যই অর্জনযোগ্য হতে হবে। নিজের যোগ্যতা, অভ্যন্তরের গতি, গুণাবলি বুঝুন। একইসাথে বুঝুন নিজের ত্রুটিগুলোও। তারপর ঠিক করুন আপনি কি অর্জন করতে চান। প্রতিটি মানুষের কিছু সিমাবদ্ধতা থাকে। সেগুলো খেয়াল করুন।
 
Realistic-বাস্তবসম্মত
আপনার লক্ষ্যটি অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। ধরুন, আপনি টার্গেট ঠিক করলেন, আপনি বিল গেটস এর মত অর্থ-প্রতিপত্তির অধিকারী হবেন। লক্ষ্যটি মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। আপনি ঠিক করতে পারেন, আপনি নির্দিষ্ট একটি অংকের টাকার মালিক হতে চান এবং সেই টাকার অংক অবশ্যই আপনার সাধ্যের মধ্যে। অবাস্তব লক্ষ্য আসলে লক্ষ্য নয়, কল্পনা।
Time- সময়
আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সেই সময়টা বেঁধে দিতে হবে আপনাকেই। আপনি যদি ঠিক করেন, আপনি একটি ভালো বেতনের চাকরিতে জয়েন করবেন। সেটা আপনি কতদিনে করবেন এই টাইম লিমিটও আপনাকে ঠিক করতে হবে। আপনি ঠিক করেছেন, টাইপিং শিখবেন। কতদিনে শিখবেন সেটাও নির্ধারণ করুন। অবাধ সময় কখনো সফলতা দেয় না।
source:priyo.com
It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *