ইন্টারভিউতে এই ২২ কথায় আপনাকে খুব বেশি রুঢ় মনে হবে

ইন্টারভিউতে এই ২২ কথায় আপনাকে খুব বেশি রুঢ় মনে হবে

চাকরির ইন্টারভিউতে নিজেকে রুঢ় প্রমাণ করতে না চাইলে এই ২২টি কথা বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন :
১. ‘আমি বেশ কিছুক্ষণ ধরেই অপেক্ষা করছিলাম’
ইন্টারভিউ গ্রহণের দেরি হলে আপনার বিরক্ত হওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তবে সেটা বলতে গেলে আপনার কোনো উপাকার হবে না।
২. ‘হাই! আমি জানি যে আমি দেরি করে ফেলেছি…’
ইন্টারভিউ গ্রহণকারীরা দেরি করলে কোনো সমস্যা না হলেও চাকরিপ্রার্থীরা দেরি করলে সমস্যা হওয়াটা একটি দ্বিচারিতাই বটে। তথাপি চাকরিপ্রার্থীদের দেরি না করাই ভালো। কিন্তু কোনো কারণে যদি দেরি হয়েই যায় তাহলে সে ব্যাপারে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ না কার এবং কোনো অজুহাত না দেখানোই ভালো। শুধু সরলভাবে ক্ষমা চেয়ে সামনে এগিয়ে যান।
৩. ‘কী হবে যদি আমি আমার বস এবং সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে না পারি?’
এতে হয়ত আপনাকে রুঢ় নাও মনে করতে পারেন। তবে এই ধরনের অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীরা আপনাকে অভদ্র এবং অন্যের সঙ্গে মিলে কাজ করতে অক্ষম ভাবতে পারেন।
৪. ‘আপনি কি বিবাহিত?/আপনার কি সন্তান আছে?আপনার বয়স কত?ইত্যাদি’
ইন্টারভিউ গ্রহণকারীকে কখনোই কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না।
৫. ‘সিইও সম্পর্কে আমি এই গুজব শুনেছি। এটা কি সত্যি?’
চাকরির ইন্টারভিউতে কখনোই গুজব নিয়ে কথা বলবেন না। এটি চরম অপেশাদার আচরণ।
৬. ‘অফিসে আমি কাকে এড়িয়ে চলব?’
অফিসে পা রাখার আগেই সহকর্মীদের নাটকে নিজেকে জড়াবেন না। এতে আপনাকে খুবই ক্ষুদ্র মানসিকতার লোক মনে হবে।
৭. ‘আপনাদের কম্পানির কাজ কী?’
এই ধরনের প্রশ্ন করলে বুঝা যাবে আপনি প্রস্তুতি ছাড়াই অবিবেচকের মতো ইন্টরাভিউতে এসেছেন।
৮. ‘আমার কোনা দুর্বলতা নেই’
এতে আপনাকে উদ্ধত মনে হবে।
৯. অভিশাপমূলক শব্দ উচ্চারণ
গালাগালি বা অভিশাপমূলক শব্দ উচ্চারণ করলে আপনাকে ইতর এবং অপেশাদার মনে হবে।
১০. ‘আমি কেমন করেছি?’ বা ‘আমি কি চাকরিটি পাব?’
এটি খুবই বিব্রতকর প্রশ্ন। পরে মেইল করে বা অন্য কোনো উপায়ে খোঁজ নিন।
১১. ‘আমার মনে হচ্ছে এটা আপনার প্রতিষ্ঠানের বড় দুর্বলতা’
আপনি যদি প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরো ভালো করা যায় সে সম্পর্কিত ধারণা দিতে পারেন তাহলে ভালো। কিন্তু আপনার ভাষা ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করুন। আর নয়ত এমন মনে হবে যে আপনি ইন্টারভিউ দিতে নয় বরং নিতে এসেছেন।
১২. ‘মাফ করবেন, আমাকে এই কলটি সত্যিই একটু জলদি গ্রহণ করতে হবে’
১৩. ‘আমার শুধু একটি চাকরি দরকার’
কখনোই ইন্টারভিউ গ্রহণকারীর কাছে এই ধরনের স্বীকারোক্তি করতে যাবেন না।
১৪. ‘হাই- আসুন শুরু করা যাক’
ঢুকেই কথা বলা শুরু করবেন না। আপনি হয়ত নার্ভাসনেস কাটানোর জন্য এটা বলতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন প্রথম কাজটি হলো নিজেকে পরিচিত করানো।
১৫. ‘দুঃখিত- আমার তাড়া আছে’
ইন্টারভিউর দিনে আর কোনো ব্যস্ততা রাখবেন না।
১৬. ‘আমি চা, কফি বা পানি পান করতে চাই’
ইন্টারভিউ গ্রহণকারী নিজে থেকে যদি আপনাকে কিছু খেতে বলে তাহলে আপনি চাইতে পারেন। তবে বিনয় দেখাতে ভুলবেন না।
১৭. ‘আমি… আমি… আমি…’
নিজের সম্পর্কে হাজারো কথা না বলে বরং আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে ভুমিকা রাখতে পারবেন শুধু তাতেই আলোচনা কেন্দ্রীভূত রাখুন। আর কথোপকথনটি বারবার ওই একই বিষয়ে ফিরিয়ে আনুন।
১৮. ‘অফিসটি আমি যেমনটা ভেবেছিলাম তেমনটা নয়’
অফিস দেখে আপনি হতাশ বা মর্মাহত হয়েছেন কখনোই এমনটা বলতে যাবেন না।
১৯. ‘আপনি এই পদে আসলেন কীভাবে?’
এতে মনে হবে আপনি নিজেকে তার চেয়ে বেশি যোগ্য মনে করছেন।
২০. ‘আপনি কি নির্বাচন বিশ্বাস করেন?’ বা ‘আপনি কাকে ভোট দিয়েছেন?’
ইন্টারভিউতে কখনোই রাজনীতি নিয়ে আলাপ করবেন না। এমনকি আলাপ শুরু হলেও তা এড়িয়ে যান।
২১. ওহে, ‘ফুলবাবু/প্রিয়তমা/মেয়ে/মহিলা/পুরুষ’
এভাবে সম্বোধন করবেন না। তাহলে অসম্মান প্রদর্শন করা হবে।
২২. ‘আমি কাজটি এভাবে করতে অভ্যস্ত নই’
চাকরিতে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনার সময় এমন ভাব করবেন না যে আপনি আর যে কারো চেয়ে কাজটি সবচেয়ে ভালো করে করতে জানেন। এতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ পাবে।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *