New office?

New office?

একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করি। নতুন অফিসে বসের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন কামাল সাহেব। বস বললেন, ‘একটা ব্যাপারে আমরা খুব গুরুত্ব দিই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। আপনি নিশ্চয়ই আমার ঘরে ঢোকার আগে পাপোশে জুতো মুছে ঢুকেছেন?’
‘জি স্যার!’ আমতা-আমতা করে বললেন কামাল।
বস এবার কড়া গলায় বললেন, ‘আরেকটা ব্যাপারে আমরা আরও বেশি কঠোর। তা হলো সততা। দরজার বাইরে কোনো পাপোশ নেই ইডিয়েট!
অফিসের নতুন কর্মী হিসেবে পরিবেশটা ঠিকঠাক না বুঝলে এমন গুবলেট আপনি পাকাতেই পারেন! ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ দ্য লাস্ট ইমপ্রেশন।’ এই বক্তব্যে আপনার দ্বিমত থাকতে পারে। তবে এ-ও ঠিক, কারও সঙ্গে ‘প্রথম দেখা’ করার সুযোগ আপনি দ্বিতীয়বার পাবেন না। গবেষকেরা মনে করেন, সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে মানুষ একজন আরেকজন সম্পর্কে একটা কিছু ধারণা করে ফেলে। তাই প্রথম সুযোগেই নতুন সহকর্মীদের আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা দেওয়াটা খুবই জরুরি। করপোরেট কোচের প্রধান পরামর্শক যিশু তরফদার বলেন, ‘ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম দিনই সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই সুযোগটা কাজে লাগানো দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, সহকর্মীদের মেজাজ কিংবা অফিসের পরিবেশটা বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। শুধু কাজের দক্ষতা না, সহকর্মীদের সঙ্গে মেশার দক্ষতাও থাকতে হবে।’
অনিশ্চয়তা, শঙ্কা কিংবা রোমাঞ্চ নিয়েই হয়তো নতুন কোনো কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কীভাবে নতুন অফিসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবেন, জেনে নিন এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ।
বলবেন কম, শুনবেন বেশি। যেহেতু আপনি নতুন, সবার কথা শুনে আগে পরিবেশটা বুঝতে চেষ্টা করুন।
অনেক অফিসেই কর্মীরা ভেতরে ভেতরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে থাকেন। এক দলের সঙ্গে চলে আরেক দলের রেষারেষি। এ ধরনের ‘গ্রুপিং’ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। ‘অফিস রাজনীতি’ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।
কোনো সহকর্মী হয়তো আপনাকে ঠিক পছন্দ করছেন না। তবু, তাঁর দিকে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিন। দুপুরে একসঙ্গে বসে খাবার খান। খেতে খেতে গল্পের ছলে সম্পর্কটা সহজ করুন।
প্রথম পরিচেয়ই সবার নাম মনে রাখতে চেষ্টা করুন।
দলগত কাজে দক্ষতার পরিচয় দিন। এমন যেন মনে না হয়, আপনি একা থাকতে কিংবা একা কাজ করতে পছন্দ করেন।
প্রশ্ন করুন, প্রয়োজনে সহকর্মীদের সহায়তা নিন। শেখার আগ্রহ আপনাকে অন্যদের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করবে।
অফিসের পুরো সময়টা থাকার চেষ্টা করুন। নতুন বলে হয়তো আপনার কাজের চাপ কম, তবু সময়টা সহকর্মীদের সঙ্গেই কাটান। অনেক প্রতিষ্ঠানে অফিস ছুটির পর খেলাধুলা হয়, আড্ডা হয়—এসবে অংশ নিন।
একজন পরামর্শদাতা খুঁজে নিন। পাশের ডেস্কের সহকর্মী, আপনার সিনিয়র কর্মকর্তা কিংবা অন্য কেউ, যিনি কোনো সমস্যা হলে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবেন।
হাতের কাছে কাগজ-কলম রাখুন। কোনো মিটিংয়ে অংশ নিতে হলে নোট রাখুন।
সূত্র: ক্যারিয়ার ডট কম

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn